অনলাইন থেকে টাকা আয় করার সেরা উপায়

অনলাইন ইনকামঃ অনলাইন থেকে টাকা আয় করার সেরা উপায় (Earn Money Online)

অনলাইন থেকে ইনকাম করার হাজার হাজার উপায় আছে। তবে আজকে আমি সেরা দশটি অনলাইন থেকে আয় করার পদ্ধতি জানাবো।  এ পদ্ধতি গুলো সব চেয়ে  সেরা  পদ্ধতি। এইখান থেকে আপনাকে যেকোন একটা পদ্ধতি সিলেক্ট করে  কাজ শিখতে হবে। আপনি যদি সবকিছুই একসাথে  করতে চান তাহলে আসলে কিছুই হবে না। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে, যেকোনো একটি পদ্ধতি বাছাই করে কাজে লেগে পড়া।

১. ব্লগিং করে অনলাইন থেকে ইনকাম

ব্লগিং হচ্ছে অনলাইন ইনকামের একটি পুরাতন এবং কার্যকরী মাধ্যম। আপনি ব্লগিং থেকে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।  এই যে আপনি এই ব্লগটি পড়তেছেন,  এটাও কিন্তু একটি ব্লগ সাইট  এবং আমি ব্লগিং করতেছি।  ব্লগার হিসেবে আপনার কাজ হচ্ছে  যে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে  লেখা লিখি  করা  যাতে  যারা ব্লগটি পড়বে তারা যেন উপকৃত হতে পারে।

 উদাহরণস্বরূপ,  আপনি অনলাইন থেকে টাকা আয় করার উপায় জানতে চাচ্ছেন এবং আমি সে বিষয়েই আপনাকে  ব্লগিং করে জানিয়ে দিচ্ছি। 

ব্লগিং করা এখন অনেক  সহজ।  আপনাকে প্রথমে একটি ডোমেইন নেইম সিলেক্ট করতে হবে।  ডোমেইন নেইম হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের নাম।  তারপর আপনাকে একটি ওয়েব হোস্টিং সিলেক্ট করতে হবে।  হোস্টিং হচ্ছে এমন একটি জিনিস  যেখানে আপনার ওয়েবসাইটটি  ডেটা সংরক্ষিত থাকবে।  বাংলাদেশ  সেরা ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি হচ্ছে একজন ExonHost.com।  তাদের কাছ থেকে  বিকাশের মাধ্যমে  পেমেন্ট করে হোস্টিং এমনকি ডোমেইন  কিনতে পারবেন।

 ডোমেইন হোস্টিং কেনার পর আপনাকে  ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল  করে ডোমেইন-হোস্টিং সেটআপ করতে হবে। তারপর আপনি  একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম সিলেক্ট করবেন। 

 এই ভিডিও  থেকে  কিভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়  তা জানতে পারবেন।

 

ওয়েবসাইটটি তৈরি করার পর আপনার কাজ হচ্ছে লেখালেখি শুরু করা। যেকোনো একটি টপিক সিলেক্ট করে লেখালেখি শুরু করবেন ।

 কিভাবে ব্লগিং থেকে আয় করা যায়ঃ  ব্লগিং থেকে আয় করার অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম  দুইটি পদ্ধতি হচ্ছে  গুগল এডসেন্স এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। গুগল এডসেন্স হচ্ছে  আপনার ওয়েব সাইটে এড দেখে ইনকাম।  এর জন্য আপনাকে  গুগোল অ্যাডসেন্সে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর আপনার ওয়েবসাইটটি অ্যাপ্রুভ হলে আপনার ওয়েব সাইটে এড শো করবে এবং সেই এডে যদি কেউ ক্লিক করে এবং তাহলে আপনার ইনকাম শুরু হবে।  

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে আপনি অন্যের প্রডাক্ট প্রমোট  করবেন এবং আপনার এফিলিয়েট  লিংক থেকে কেউ যদি পণ্য ক্রয় করে তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।  আপনি আপনার টপিকের উপর অনেক  প্রোডাক্ট  পাবেন,  সেগুলো আপনার ব্লগে  রিভিউ  করবেন। এবং সেই রিভিউ পোস্টে আপনার এফিলিয়েট লিংক এড করে দিবেন।  সেই লিংকে কেউ যদি ক্লিক করে সেই প্রোডাক্টটি  ক্রয় করে  তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম- অনলাইন ইনকাম

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইন ইনকামের একটি অন্যতম সেরা পদ্ধতি। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি অনেক ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি টপিক সিলেক্ট করে নিতে হবে। তারপর সেই টপিকের প্রডাকগুলো সিলেক্ট করে  এফিলিয়েট লিংক নিতে হবে এবং সেগুলো সোসিয়াল মিডিয়া, ইউটিউব, ব্লগিং এবং পেইড এডের মাধ্যমে প্রমোট করতে হবে। আপনার লিঙ্ক থেকে যদি কেউ প্রডাক্ট ক্রয় করে তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস রয়েছে।  তার মধ্যে ClickBank.com,  JvZOO.com WarriorPlus.com অন্যতম।  প্রথমে আপনাকে এই সাইট গুলোতে সাইনআপ করে নিতে হবে।  সাইন আপ করার পর আপনি এই মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেক প্রোডাক্ট দেখতে পাবেন।  সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রডাক্ট সিলেক্ট করে এফিলিয়েট  লিংক নিয়ে নিবেন। 

এফিলিয়েট লিংক নেয়ার পর আপনার কাজ হচ্ছে এফিলিয়েট লিংক প্রমোট করা।  প্রমোট করার জন্য অনেক অনেক পদ্ধতি রয়েছে। আমাদের সেরা কিছু পদ্ধতি হচ্ছে  ব্লগিং করে এফিলিয়েট লিংক প্রমোট করা যা আমি ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি। আপনার কাজ হচ্ছে ব্লগে লেখালেখি করা এবং  এফিলিয়েট প্রডাক্ট লিংক আপনার ব্লগ অ্যাড করা।

ইউটিউব এর মাধ্যমে আমরা এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারি।  যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর আমরা ভিডিও বানিয়ে ডিসক্রিপশন এ এফিলিয়েট লিংক এড করে ইনকাম করতে পারি।

 উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ক্রিকেট সম্পর্কে  ভিডিও বানান  তাহলে  আপনি ব্যাট বল প্রমোট করতে পারবেন।  অনেকেই অনলাইন থেকে এখন ব্যাট এবং বল কিনে।  আপনি সেই ব্যাট-বলের এফিলিয়েট লিংক ডিস্ক্রিপশনে এড করে দিবেন এবং কেউ যদি সে ডিসক্রিপশন লিংক থেকে ব্যাট এবং বল কিনে তাহলে আপনি কমিশন পাবেন।

 এটি হচ্ছে আফিলিয়েট মারকেটিং।  অন্যের প্রোডাক্ট প্রমোট করে কমিশন পাওয়া।  এফিলিয়েট মার্কেটিং করলে আপনার কোন নিজস্ব কোনো প্রডাক্ট লাগবে না এবং অন্য কোন ঝামেলা নেই।  তাই এটি একটি  অনলাইনে ইনকাম করার ভাল মাধ্যম ।

৩. ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম 

বর্তমানে বাংলাদেশের  তরুণ-তরুণীদের  মাঝে একটি জনপ্রিয় শব্দ হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।  বাংলাদেশের এখন অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক  স্মার্ট ইনকাম জেনারেট করছে। সো আপনি চাইলেও ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করতে পারেন।

তার আগে বলে নেই ফ্রিল্যান্সিং কি? সহজভাবে বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অন্যের কাজ করে ইনকাম করা। অনলাইনে আপনি অনেক ধরনের কাজ পাবেন।  উদাহরণস্বরূপ, গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ, ওয়েব ডিজাইনের কাজ, লেখালেখির কাজ।  এই কাজগুলো করে আপনি  অনলাইন থেকে ইনকাম করবেন।

তো এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন এ কাজ গুলো কোথায় পাবো?  এই কাজ গুলো পেতে হলে আপনাকে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে সেগুলোতে জয়েন করতে হবে।  ফাইবার, আপওয়ার্ক হচ্ছে এদের মধ্যে অন্যতম।

আপনি আপওয়ার্কে সাইন আপ করার পর  বিভিন্ন কাজে বিড করতে হবে। বিট করার পর বায়ার যদি আপনাকে পছন্দ করে তাহলে আপনি সেই কাজটি পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করার আগে আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।  ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট একটি কাজ শিখতে হবে।  সেটি  হতে পারে লেখালেখির কাজ  অথবা গ্রাফিক ডিজাইন এর কাজ। যেকোনো একটি কাজ ভালোভাবে শিখে তারপর মার্কেটপ্লেসে আবেদন করবেন।

ফ্রিল্যান্সিং সাকসেস এর মূলমন্ত্র হচ্ছে   কাজ অনেক ভালোভাবে শেখা।  কাজ যদি আপনি অনেক সুন্দর করে করে দিতে পারেন, বায়ার আপনাকে বারবার কাজ দিতে থাকবে। এবং আপনাকে অন্যের কাছে রিকমেন্ট করবে।  আর আপনি যদি ভালোভাবে কাজ না করতে পারেন তাহলে সেই বায়ার আপনাকে  কাজ দিতে অনীহা প্রকাশ করবে। 

৪. ইউটিউবিং করে ইনকাম

ইউটিউবও তরুণদের মাঝে একটি জনপ্রিয় ইনকামের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ইউটিউবে যদিও ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মত ইঙ্কাম করা যায় না, তবুও যদি আপনার একটি ভালো ফ্যানবেজ থাকে তাহলে আপনি হ্যান্ডসাম মানি ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউব করার জন্য ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার  লাগবে। তাই নতুনদের জন্য ইউটিউব শুরু করা একটি কঠিনই।  তবে আপনি যদি ভালো ভিডিও তৈরি করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই ইউটিউবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।

 ইউটিউবের একটি ভালো সুবিধা হচ্ছে- আপনার অডিয়েন্স ইউটিউবে রয়েছে এবং তাদেরকে রিস করা অনেক ইজি।  ব্লগিংয়ে আপনাকে অডিয়েন্স রিচ করতে হলে গুগোলে সাইট  র‍্যাংক করাতে হবে।  

ব্লগিং এর মত ইউটিউবে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট টপিক সিলেক্ট করে নিতে হবে।  এবং তারপর সেই বিষয়ের উপর  নিয়মিত ভিডিও বানাতে হবে। নিয়মিত ভিডিও বানালে দেখবেন  আপনার অডিয়েন্স নিয়মিত  বেড়ে চলেছে। 

আপনার যখন 1000  সাবস্ক্রাইবার এবং 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম হবে তখন আপনি  এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এডসেন্স আবেদন এপ্রুপ হলে আপনি আপনার চ্যানেলে অ্যাড দেখিয়ে এডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম শুরু করতে পারবেন।  ইউটিউব এর মাধ্যমে আরেকটি  অনলাইনে আয় করার মাধ্যম হচ্ছে  এফিলিয়েট মার্কেটিং যা আগে আলোচনা করেছি।

আপনি যদি মানুষের সামনে কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন,  তাহলে ইউটিউব হতে পারে  আপনার  জন্য সেরা একটি পেশা।  অনেকেই ইউটিউবকে ফুলটাইম পেশা হিসেবে নিয়েছে  এবং লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।   তো আপনি যদি কোন বিষয়ে পারদর্শী হন তাহলে এখনি খুলে ফেলতে পারেন ইউটিউব চ্যানেল।  এবং ইউটিউব চ্যানেল শুরু করতে আপনার কোন টাকা পয়সা লাগবে না। ফ্রিতে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারবেন। 

৫. লেখালেখি করে ইনকাম

লেখালেখির ডিমান্ড দিন দিন বেরেই  চলেছে।  অনলাইনে প্রতিদিন  হাজার হাজার ব্লগ পোষ্ট পাবলিশ হচ্ছে।  প্রতিদিন কনটেন্টের সংখ্যা যেমন বাড়ছে,  তেমনি ভাবে কনটেন্ট রাইটিংয়ের ডিমান্ড বেড়ে চলেছে।

আপনি যদি রাইটিং এ অনেক ভাল হন তাহলে আপনি অনলাইনে লেখালেখি করে ইনকাম করতে পারেন।  অনলাইনে হাজার হাজার ব্লগ আছে যারা অন্যকে দিয়ে লেখালেখি  করিয়ে নেয়।  আপনি যদি তাদের হয়ে লেখালেখি শুরু করেন তাহলে সেখান থেকে অনেক ভালো ইনকাম শুরু করতে পারেন।

আপনি যদি ইংরেজি বিষয়ে লেখালেখি করেন, তাহলে প্রতি ১০০০ ওয়ার্ডে আপনি ২০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।  প্রতিদিন যদি আপনি  ২০০০ ওয়ার্ড লিখতে পারেন,  তাহলে আপনি  ৪০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত প্রতিদিন আয় করতে পারবেন।

লেখালেখি শিখতে হলে প্রতিদিন প্রচুর ইংরেজি ব্লগ পড়তে হবে। তারা কিভাবে লেখে তা ফলো করতে হবে।  চাইলে আপনি এ বিষয়ের উপরে  কোর্স করতে পারেন। 

এই পাঁচটি মেথড এখন পর্যন্ত আমার দেখা সবচেয়ে সেরা অনলাইন ইনকাম করার মাধ্যম।  আমার সাজেশন হচ্ছে এখান থেকে যে কোন একটি  মেথর সিলেক্ট করে কাজে কাজ শিখুন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *