অনলাইন-থেকে-টাকা-আয়-করার-সেরা-উপায়

ব্লগ লিখে আয় করার সেরা ৪ টি সহজ উপায় (Earn Money Blogging)

অনেকেই বলে থাকেন যে ব্লগ লিখে বাংলাদেশ  আয়ের সুযোগ অনেক সীমিত। কিন্তু এই কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কিছুদিন আগে গুগল অ্যাডসেন্স বাংলাদেশে এসেছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েব সাইটে এড দেখিয়ে ইনকাম করতে পারেন। এছাড়াও ব্লগ লিখে আয় করার আরও অনেক রকম পদ্ধতি রয়েছে। আজকের ব্লগপোষ্টে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।

আমি মাহমুদুর রুবেল একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার এবং ব্লগার। আমি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং ব্লগ লিখেই জীবিকা নির্বাহ করছি।

তাহলে চলুন কিভাবে ব্লগ লিখে আয় করা যায় সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করি

১।   ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয়।

ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন  দেখিয়ে আয় সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজতর। ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার জন্য আপনার ব্লগের ভালো কন্টেন্ট থাকতে হবে। আপনার ব্লগটি যদি আপনার লাইভের প্রথম ব্লগ হয়ে থাকে, তাহলে প্রথমে এই উপায়টি বেছে নিন।

আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হবে। অনলাইনে অনেক বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক রয়েছে,  তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুগল এডসেন্স । এছাড়াও রয়েছে Media.net, PropellerAds এর মত কিছু বিজ্ঞাপন সাইট।

আপনার পছন্দের নেটওয়ার্ক সিলেক্ট করার পর সেখানে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আপনাকে রিকমেন্ড করব গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে শুরু করুন কারণ এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়  এড নেটওয়ার্ক।

গুগোল অ্যাডসেন্সে আবেদন করার পর আবেদন টি এপ্রুপ হলে ওয়েব সাইটে এড দেখাতে পারবেন। 

আপনার ওয়েবসাইটে যে অ্যাড গুলো রয়েছে সেখানে যদি কেউ ক্লিক করে, তাহলে সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। সাধারণত প্রতি ক্লিকে 1 থেকে 5 হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়। প্রতি ক্লিকে  আপনি কত আয় করবেন তা ডিপেন্ড করে আপনার টপিকের উপর।  আপনি  যদি ইন্সুরেন্স নিয়ে লিখেন তাহলে আপনি প্রতি ক্লিকে ৫০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। বাংলাতে ব্লগ লিখলে টাকার পরিমাণ অনেক কম।  আপনি প্রতি ক্লিকে পেতে পারেন ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। 

আপনি যদি  বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচুর ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার ব্লগের ভিজিটর বাড়াতে হবে, আপনার ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্লেসমেন্ট ঠিক করতে হবে। 

২। ব্লগে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম।

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অনেক ভালো ইনকাম হতে পারে যদি আপনি সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন।  এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অন্যের প্রোডাক্ট  প্রমোট করা। আপনার ব্লগে আপনি অন্যের প্রোডাক্টগুলো প্রমোট করবেন এবং সেই প্রডাক্টগুলো যদি আপনার ব্লগে এসে ক্রয় করে তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন। আপনি যে নিস নিয়ে কাজ  করছেন সেই নিসে আপনি অনেক প্রোডাক্ট পাবেন। সেই প্রডাক্টগুলো খোঁজার জন্য আপনি ক্লিকব্যাংক অথবা অন্যান্য এফিলিয়েট মার্কেটপ্লেসে যাবেন এবং প্রোডাক্ট গুলো সার্চ করে খুঁজে বের করবেন। খুঁজে বের করার পর সেখান থেকে এফিলিয়েট লিংক নিয়ে আপনার ব্লগে এড করে দিবেন। 

উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি ব্লগ লিখছেন ল্যাপটপ নিয়ে। ল্যাপটপ সম্পর্কে নানান রকম টিপস দিচ্ছেন আপনার ব্লগে। এখন অনেকেই আপনার কাছের রিকমেন্ড চাইতে পারে কোন ল্যাপটপটি ক্রয় করলে ভালো হবে। তাহলে আপনি কি করতে পারেন? ল্যাপটপ নিয়ে রিভিউ লিখতে পারেন এবং সেই রিভিউটাই এফিলিয়েট লিঙ্ক এড করতে পারেন।  সেই এফিলিয়েট লিংক থেকে যদি কেউ ক্রয় করে তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।

 বিজ্ঞাপনের থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক বেশি ইনকাম করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে অনেক বেশি ইনকাম করতে হলে আপনার ব্লগের ভিজিটর বাড়াতে হবে এবং বেশি বেশি প্রডাক্ট রিভিউ লিখতে হবে। আপনি চাইলে এফিলিয়েট লিংক এ ব্যানারে রূপান্তর করে আপনার সাইডবারে প্রকাশ করতে পারেন। 

৩। ব্লগে আপনার নিজের পণ্য বিক্রি করে আয়

ব্লগে যদি আপনি আপনার নিজের পণ্য বিক্রি করেন তাহলে এটি হবে সবচেয়ে লাভজনক উপায়। যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেন তাহলে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।  সেটি হতে পারে ৫ থেকে ৫০%।  কিন্তু আপনি যদি আপনার নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করেন তাহলে আপনার লাভ থাকবে পুরোটুকুই। আপনি নিজের প্রোডাক্ট হিসেবে ইবুক অথবা কোর্স বিক্রি করতে পারেন।

যেমন আমি ব্লগ করি এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে। এখন আমি চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং রিলেটেড ই-বুক  এবং কোর্স তৈরি করতে পারব। এভাবে আপনি নিজের ব্লগে পণ্য বিক্রি করে আয় করতে পারেন। 

একটি পণ্য তৈরি করার শুরুর আগে আপনাকে ডিসাইড করতে হবে আপনি কি ধরনের পণ্য ক্রিয়েট করতে চান, এবং পণ্যটির মার্কেট ডিমান্ড আছে কিনা? তারপর পণ্যটি আপনি নিজে তৈরী করতে পারেন অথবা  যেকোনো মার্কেটপ্লেস থেকে আউটসোর্স করতে পারেন। পরপর আপনার প্রোডাক্টের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

মূল্য নির্ধারণ করার পর আপনার পণ্যটি ব্লগে মার্কেটিং শুরু করতে হবে। আপনি যত বেশি ভালো মার্কেটিং করবেন তত আপনার পণ্যটি বিক্রয় হবে।

৪। ব্লগে সার্ভিস প্রোভাইড করে ইনকাম

আপনি ব্লগ তৈরি করছেন সেহেতু আপনার ব্লগিং নিয়ে স্কিল রয়েছে। আপনি চাইলেই অনেক ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করতে পারেন।

বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রোভাইড করে আপনি ভালো ইনকাম শুরু করতে পারবেন। আপনি যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী সেই বিষয়ে  সার্ভিস দিতে পারেন. আপনি অন্যের জন্য লিখালিখি করেও আয় করতে পারেন।

আপনি চাইলে এই চারটি পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করতে পারবেন. একসাথে চারটি মনিটাইজ মেথড যদি ব্যবহার করেন,তাহলে আপনার ব্লগ থেকে প্রচুর ইনকাম করতে পারবেন.। 

সাজেশন থাকবে আপনার ব্লগে  ভালো কোয়ালিটির ব্লগ পোস্ট লিখুন, আপনার অডিয়েন্সকে হেল্প করুন।

আশাকরি আপনি একদিন ব্লগিং অনে করে অনেক সাকসেসফুল হবেন.  তাহলে আজ এই পর্যন্তই ভালো থাকবেন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *